তোমরা হয়তোবা হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্পটি পড়েছ বা শুনেছ। যেটা জার্মানিতে ঘটেছিল। বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুমধুর সুরে শহরের হাজার হাজার ইদুর ছুটে এসেছিল তার পিছু পিছু। তোমরা যারা পঞ্চম শ্রেণী শেষ করেছো তারা নিশ্চয়ই সিংহ ও ইদুরের কাহিনীটি পড়েছো। ছোট ইদুরটি সিংহের নাকটাকে গর্ত ভেবে ঢুকে পড়েছিল। সিংহ তো রেগে আগুন। শেষে ইদুরের অনুরোধে সিংহ তাকে ছেড়ে দিল। কিন্তু এক সময় সেই ছোট ইদুরটিই তার সূক্ষ্ম বুদ্ধি দ্বারা বনরাজ সিংহকে জালের ফাদ থেকে রক্ষা করেছিল এবং পরে তাদের দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠলো।
এবার তোমাদের আরেক ইদুরের গল্প শোনাবো। সেটা হলো মিকি মাউসের গল্প। বাস্তবে এটা কিন্তু একটা গল্প ছিল না। ছিল ব্যঙ্গাত্মক এক মজার কার্টুন। আর এ কার্টুনটির স্রষ্টা ছিলেন বিখ্যাত পরিচালক ওয়াল্ট ডিজনি। যিনি এক সময় ইঁদুর দেখলেই খুব ভয় পেয়ে যেতেন। তবে তিনি ছোটদের জন্য মজার কার্টুন তৈরি করতে খুব পছন্দ করতেন। তাই ১৯২৮ সালের এক বসন্তের দিনে ডিজনি শিশুদের জন্য একটি মজার চরিত্রের কথা কল্পনা করতে লাগলেন। তিনি তার সহযোগী আইওয়ার্কসকে কার্টুনের কিছু স্কেচ তৈরি করতে বললেন। প্রথমে আইওয়ার্কস কুকুর-বিড়াল এবং ব্যাঙের কিছু স্কেচ তৈরি করলেন। কিন্তু তা ডিজনির মনঃপূত হয়নি। তাই সেগুলোকে সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করলেন। একদিন ডিজনি সাহেব কার্টুন সম্পর্কে ভাবতে ভাবতে রেলপথ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি মরা ইঁদুর রেলপথের ওপর পড়ে থাকতে দেখলেন। তার চোখ ঝলসে উঠলো। হ্যা, এ ইদুরই হবে তার মজার কার্টুনের প্রধান চরিত্র। এরপর ডিজনির অনুপ্রেরণায় ইউবি আইওয়ার্কস একটি ছোট ইদুর নিয়ে কাহিনী তৈরি করলেন। যার নাম ছিল মিকি মাউস।
মিকি মাউসের প্রথম সিরিজ প্লেইন ক্রেজি ১৯২৮ সালের ১৫ মে মুক্তি পায়। এতে মিকি ছিল একজন প্লেইন চালক! এরপর আর্জেন্টিনার পাম্পাসের এক রাখালকে কেন্দ্র করে মিকি মাউসের দ্বিতীয় সিরিজ দি গ্যালোপিন গৌচো ১৯২৭ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তি পায়। এতে পিটি নামের এক চরিত্রের আবির্ভাব হয়। যাকে সিরিজের সবটুকুতেই ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। ঘটনাক্রমে পিটি মিনিকে কিডন্যাপ করে। কিন্তু মিকি তার শক্তি ও কৌশল দ্বারা মিনিকে রক্ষা করে। এ সিরিজটি খুব আনন্দদায়ক হলেও জনপ্রিয়তা তেমন পায়নি। তবে ১৯২৮ সালের ১৮ নভেম্বর তৃতীয় সিরিজ স্টিমবোট উইলি মুক্তি পেলে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এর প্রধান কারণ এ কার্টুনটির সঙ্গে জনপ্রিয় মিউজিকগুলো সংযোগ করা হয়েছিল। আর আগের সিরিজ দুটি ছিল শব্দহীন। গবেষকদের মতে, আগের সিরিজ দুটি শব্দ না থাকার কারণে তেমন কেউ পছন্দ করেনি। ১৯২৯ সালের ১৪ মে মুক্তি পায় চতুর্থ সিরিজ দি বার্নড্যান্স। যাতে মিকিকে নায়কের পরিবর্তে দেখা যায় একজন পাণিপ্রার্থী হিসেবে।
১৯২৯ সালের ২৮ মার্চ পঞ্চম সিরিজ দি অপ্রি হাউস মুক্তি পায়। মিকি মাউসের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিরিজ দি বার্নইয়ার্ড ব্যাটল মুক্তি লাভ করে। যেটিতে মিকি ছিল একজন যুদ্ধংদেহী সৈনিক।
এই মিকি মাউস কার্টুনটি ১৯৭৪ সালের ১৮ নভেম্বরে তার ৫০তম বর্ষপূর্তিতে হলিউড ওয়েক অফ ফেমের সর্বশ্রেষ্ঠ কার্টুন বলে স্বীকৃতি পায়। আর এ মজার কার্টুনটি নিয়ে হই চই পড়ে যায় সারা পৃথিবী জুড়ে। এর ওপর ভিত্তি করে ছোটদের জন্য আরো কতো যে কার্টুনের বই বের হয় তার ইয়ত্তা নেই। অনেক টিভি চ্যানেল মিকিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রোগ্রাম তৈরি করে। যেমন মিকি মাউস ওয়ার্ক (১৯৯৯-২০০০), ডিজনিস হাউস অফ মাউস (২০০১-২০০৩) এবং মিকি মাউস ক্লাব হাউস।
-প্রজ্ঞা নীল