তুষারপাত। বাংলাদেশে থাকতে মনে করতাম বিলেতে শীতকাল মানেই হয়তো তুষারপাত। ১৯৯৯/২০০০ এ যখন প্রথম এসেছিলাম, তখন বুঝেছিলাম ধারণাটা একেবারেই ভুল ছিল। তারপরে যখন ২০১১ তে আসলাম, নামার পরেই, এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে আসার পথে,ট্যাক্সি ড্রাইভারের কথায় ভয়ই পেয়েছিলাম, কারণ, বলেছিল, আগেরবার প্রচুর বরফ পড়েছিল, সবকিছু বন্ধ ছিল প্রায় দিন সাতেক, আর সবচেয়ে অসুবিধা হয়েছিল খাবার আর ইলেক্ট্রিসিটি নিয়ে! শুনে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, অস্বীকার করবোনা। কিন্ত পরে দেখলাম, অবস্থা তেমন না।
২০১২ তে তাহমীদ হাসপাতালে থাকাকালীন একবার হাল্কা তুষারপাত হয়েছিল, খুবই কম। তাও আমি আমার কাজের সুবাদে, হোটেলেই থেকেছিলাম, স্পন্দন বাড়িতে ছিল, তাহমীদকে দেখতে গিয়েছিল বরফের মাঝেই। মাত্রই দুদিন ছিল বরফ।
অনেক বছর পর, এবার বিলেতে বেশ ভালই তুষারপাত হচ্ছে। ডিসেম্বর এ পড়লো দশ তারিখে, ভারী তুষারপাত। এরপরে আবারো পড়লো, তাও আবার শীত চলে যাবার সময়। ফেব্রুয়ারি আর মারচে এসে তুষারপাত। ফেব্রুয়ারির তুষারপাতে স্কুল কলেজ বন্ধ করে দিয়েছিল, এমনকি লন্ডনেও। দিন সাতেক পড়লো। জাঁকিয়ে ঠাণ্ডা পড়লো। আজকে আবার সকালে একটু আগে থেকেই শুরু হয়েছে তুষার পড়া। কালকের ১৫ডিগ্রী থেকে এখন নেমেছে -২ তে। পাগলা আবহাওয়া আসলেই মন পাগল করেই দেয়। নিঃশব্দে পড়েই যায় তুষার। গুড়িগুড়ি বৃষ্টির ছাঁটের মতন করে পড়লেও কোন শব্দই নেই। এটাই তুষারপাতের বৈশিষ্ট্য। আস্তে আস্তে বাড়ছে। সারাদিন ধরেই আজকে পড়ার কথা তুষার। স্পন্দন অপেক্ষায় আছে যেন বেশী পড়ে, তাহলে স্কুল বন্ধ দিতে পারে, সোমবার।
সপ্তাহান্তে তুষারপাত, মানুষ ভালই উপভোগ করতে পারবে, পরিবার নিয়েই। এখানে সপ্তাহান্তের তুষারপাত যেমন উপভোগ্য, তেমনই উজ্জ্বল সূর্যালোক পাওয়াও উপভোগ্য। সামনে আসছে সামার। প্রতীক্ষিত সামার, সবাই সূর্য দেখার আগে আপাতত বরফ সাদা চারপাশ দেখতেই ভাল লাগুক! ভারী তুষারপাত হলেও আমার রুটিনবাঁধা জীবন কিন্ত বদলাবে না!! আমি কিন্ত ঠিকই যাবো!!

তৌফিকুল করিম সুহৃদ