মুচলেকা দিলে বিজিএমইএর সময় আবেদন বিবেচনা

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র মুচলেকা পেলেই রাজধানীর হাতিরঝিলে গড়ে তোলা তাদের অবৈধ ভবন ভাঙতে সময় চেয়ে করা আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এমন শর্ত দেন।

আপিল বিভাগের এমন অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ভবন ভাঙতে ভবিষ্যতে আর সময় চেয়ে আবেদন করা হবে না মর্মে মুচলেকা দিতে রাজিও হয়েছে বিজিএমইএ। আর বিজিএমইএ এই মুচলেকা জমা দেওয়ার পরই ভবন ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে তাদের করা আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

এদিন আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে গত রোববার ভবন ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে বিজিএমইএর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে ২৭ মার্চ আদেশের দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। তবে এদিন আদেশ না দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত বিজিএমইএ’র কাছ থেকে এই মর্মে মুচলেকা চান যে, ভবিষ্যতে ভবন ভাঙতে আর সময় চেয়ে তারা আবেদন করবে না। বিজিএমইএ-ও মুচলেকা দিতে রাজি হয়েছে। মুচলেকা পেলেই আদেশের নতুন দিন ধার্য করবেন আদালত।

এর আগে গত বছরের ৮ এপ্রিল ভবনটি ভাঙতে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষকে সাত মাস সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। ওই সময় আদালত আদেশে বলেছিলেন, ‘এটাই শেষ সুযোগ। আর সময় দেওয়া হবে না।’

সেই সাত মাস শেষ হওয়ার কয়েকদিন বাকি থাকতেই গত ৫ মার্চ ভবনটি ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ।

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে দৃষ্টিনন্দন লেক হাতিরঝিলের বুকে দাঁড়িয়ে আছে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ১৬ তলাবিশিষ্ট বিজিএমইএ’র ভবনটি। এই ভবন নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন ছিল না। শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিলেন পরিবেশকর্মীরা।

গত বছরের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ করে দেন। ওই সময় বিজিএমইএ’র পক্ষ হতে ভবন থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র স্থানান্তরের জন্য তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত ১২ মার্চ আবেদন নিষ্পত্তি করে তাদের ছয় মাস সময় দেন।

এর আগে ২০১০ সালের ৩ এপ্রিল সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে বিজিএমইএ ভবনকে ‘একটি ক্যান্সার’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই সময় আদালত ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।