অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশে ছয় লাখ ভিক্ষুক রয়েছে। তবে তারা কেউ অভাবের কারণে ভিক্ষা করে না। তারা পেশাদার বলে সরকারিভাবে চেষ্টা করেও তাদের পুনর্বাসন করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৮-এর চতুর্থ দিনে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন আর অভাবের কারণে কেউ মারা যায় না। এখন আর কারও ঝুপড়ি ঘর দেখা যায় না। দেশের গ্রামগুলো এখন সিলভার রং ধারণ করেছে। গ্রামগুলোর এই দৃশ্য আমাকে বিমোহিত করে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি শুদ্ধাচার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এই জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল আমাদের আদর্শ। আগামী কয়েক বছরে মধ্যেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে যে, দেশটি দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে- এমন মন্তব্য করার তখন সুযোগ থাকবে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা করার ক্ষেত্র কমে আসবে। মুহিত বলেন, বর্তমানে কোনো সরকারি কর্মচারী ১৬ হাজার টাকার নিচে বেতন পান না। এখন কেউ দুর্নীতি করলে এটা তাদের অভ্যাস ও লোভ। মানুষের অনৈতিক অভ্যাস বা লোভ পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, জনগণকে সংবেদনশীল করা ও সর্বোপরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার করার জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ পালন করে দুদক। বাংলাদেশে কিছু দুর্বৃত্তের সীমাহীন লোভের কারণে যে দুর্নীতি হচ্ছে, তা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কোনো কোনো অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে আয়কর বিভাগে যে আর্থিক বিবরণী দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আইপিওর জন্য সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া আর্থিক বিবরণী কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য জমা দেওয়া আর্থিক বিবরণীর কোনো মিল নেই। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবশ্যই একটি নৈতিক মানদণ্ড থাকতে হবে। তাদের অবশ্যই একটি পরিশুদ্ধ আর্থিক বিবরণী তৈরি ও ব্যবহার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে যথাক্রমে নরসিংদী ও ময়মনসিংহ জেলাকে শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। একইভাবে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা প্রথম, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলা দ্বিতীয়, সরিষাবাড়ী ও গফরগাঁ উপজেলাকে যৌথভাবে তৃতীয় শ্রেষ্ঠ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের সাভার উপজেলা প্রথম, কালিহাতী উপজেলা দ্বিতীয়; মনোহরদী ও রাজৈর উপজেলা যৌথভাবে তৃতীয় শ্রেষ্ঠ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- দুদক কশিনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. জাফর ইকবাল, সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দীন নাইম প্রমুখ।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দুদক মিডিয়া সেন্টারে দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।