নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাদের আর্থিক উন্নতি পরিবার ও সমাজকে সচ্ছল ও উন্নত করবে। নারীর আর্থিক উন্নতি নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নত হবে। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় এসএমই মেলা-২০১৮’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, এসএমই খাতসহ নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। এসএমই মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই নারীর। আর এ থেকে প্রমাণ হয় নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছি। আর ২০২১ সালে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, নকশিকাঁথা এবং সিলেটের শীতল পাটি ইতোমধ্যে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে। উদ্যোক্তারা এসব পণ্যের ব্র্যান্ডিয়ের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় ১০ লাখ এসএমই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতি বছর শুধু এসএমই খাতেই কমপক্ষে ১০ লাখ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এবারের মেলা এসএমই ফাউন্ডেশন ও এফবিসিসিআইর যৌথ উদ্যোগে এই মেলা আয়োজন করা হয়। মেলায় মোট ২৯৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। অধিকাংশই নারীদের প্রতিষ্ঠান।
এবছর ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০১৭’ বিজয়ী বর্ষসেরা নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন- শাহীদা পারভীন ( বিসমিল্লাহ ট্রেন্ডস সলিউশন), বর্ষসেরা পুরুষ ক্যাটাগরিতে মোহাম্মদ শাহবুদ্দিন ( দোয়েল ইন্টারন্যাশনাল), বর্ষসেরা মাঝারি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে- মাকসুদা হাসনাত (স্বতদল হস্তশিল্প)। মোহাম্মদ গাজী তৌহিদুল ইসলাম (এসএম প্লাস্টিক) তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা পুরস্কার এবং ট্রফি ও সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এসএমই মেলা চলবে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আইটি পণ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য সিনথেটিক, হস্তশিল্প, ডিজাইন ও ফ্যাশন ওয়্যারসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পণ্য মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি হবে।
মেলায় প্রবেশে কোনো ফি দিতে হবে না। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।