‘বৈশাখ মানেই ইলিশ’- একটি লেখা দেখে মনে হলো আরো একবার মনে করিয়ে দেই। গত তিন বছর ধরে বৈশাখ মানেই যে ইলিশ মাছ নয়, তা বোঝানোর জন্য ‘লাইফস্টাইল’ এবং ‘সোনালি সকাল’ থেকে জোরো সোরে ক্যাম্পেইন করে আসছি। এবছর মানুষের মধ্যে সচেতনতা বিগত বছরের থেকে একটু উপলদ্ধি হয়েছে, দেখে বেশ ভালো লাগলো। তারপরও যারা জানেন না, তাদের জন্য আবারো বলছি।
পুরো বিষয়টি অবশ্যই সহযোগিতার এবং সহমর্মিতার। ইলিশ আমরা অবশ্যই খাবো তবে যখন তার সময় হবে, ঠিক তখনই। এখন নয়। এই মৌসুম হচ্ছে ইলিশের বিস্তারের সময়। এসময় এখন যদি জাটকা ধরে আমরা খেয়ে ফেলি, ইলিশের আসল স্বাদ তো পাবোই না অন্যদিকে আস্তে আস্তে এই মাছটি আমরা হারিয়ে ফেলবো। তাই সচেতন হতে হবে আমাদের আজ -এখন থেকে। প্রতিজ্ঞা করতে হবে অন্য কেউ খেলেও- আমি অন্তত খাবো না।
তাছাড়া জাতীয় উৎসবের একটি পরিচিত খাবার যদি অধিকাংশ মানুষেরই সাধ্যের বাইরে থাকে তবে সেটা আর উৎসবের অংশ থাকে না। সেটা হয়ে যায় বিলাসিতা এবং এক ধরনের লোক দেখানো ব্যাপার। আমরা মনে করি বৈশাখ মাসে বিশেষ করে পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ না খাওয়ার চর্চা করাই হবে সবার জন্য মঙ্গলজনক। নতুন বছর বরণ করতে ইলিশ অপরিহার্য নয়।
আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যে কোথাও কিন্তু পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার কথা লেখা নেই। এটা আমাদের সৃষ্টি। পর্যায়ক্রমে তা এতো ব্যাপক হয়ে পড়েছে যে এখন তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।
বছরটা শুরু হোক নতুন ভাবনা থেকে, ভালো কিছু বরণ করে নেয়ার মধ্য দিয়ে। ইলিশ না খাওয়া নিয়ে অবশ্যই সুন্দর এই দিনটি আমরা নষ্ট করবো না। সার্বজনীন এই উৎসব যাতে সবাই মিলে মিশে পালন করতে পারি সেই চেষ্টা করি। সবাইকে ধন্যবাদ।


-নিশাত মাসফিকা