তানবীর সিদ্দিকী

জ্যাম এড়াতে প্রভাবশালীদের উল্টো পথে গাড়ী চালানো স্বাভাবিক ঘটনা। কেউ কিছু মনে করে না। এমনই একটি গাড়ী গতকাল আটকিয়েছে আমার ছেলে। শুধু আটকিয়ে খ্যান্ত হয়নি, গাড়ী ঘুরিয়ে যেতে বাধ্য করেছে সে! ঘটনা ঘটেছে গতকাল বিকেলে হাতির ঝিলে। ও তখন পুলিশ প্লাজা হয়ে মগবাজারের দিকে আসছিলো একটা মাইক্রবাসে। গাড়ীর ড্রাইভারকে হাত করে সে ছিল চালকের আসনে (ইতিমধ্যে সে সব ধরনের পরীক্ষা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স করে ফেলেছে যদিও তার বাপের গাড়ী নেই আর সম্ভাবনাও নেই অদূর ভবিষ্যতে)। কিছুদুর যাওয়ার পর সে লক্ষ্য করে একটা প্রাইভেট কার হেড লাইটের সিগন্যাল দিতে দিতে উল্টো পথ দিয়ে এগিয়ে আসছে। সবাই সাইড দিলেও সে সাইড না দিয়ে ব্রেক করে প্রাইভেট কারের একদম সামনে। অবস্থা বেগতিক দেখে কারের ড্রাইভার নেমে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে সাইড চাইলো। ছেলে অনড়, রং সাইড দিয়ে গাড়ী যেতে দেবে না। রং সাইডের গাড়ীতে একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের স্টিকার। ড্রাইভার বললো, গাড়ীতে ম্যাডাম বসা আছেন, দয়া করে যেতে দেন, ভুল করে (!) চলে এসেছি। ছেলেও ত্যাঁদড় কম না। বলে, চলেন, কোথায় আপনার ম্যাডাম! ততক্ষনে ছোটখাটো জ্যাম লেগে গেছে। আশেপাশে লোকজন মোবাইলে ধারণ করছে এই কর্মকাণ্ড। অবস্থা বেগতিক দেখে ‘ম্যাডাম’ গাড়ী ঘোরাতে বললেন। সমস্যা দেখা দিলো এই ছোট রাস্তায় গাড়ী ঘোরাবে কি করে। আমার ছেলে ট্রাফিকের দায়িত্ব নিয়ে গাড়ী ঘুরিয়ে দিল। মন্ত্রণালয়ের নাম আর ম্যাডাম শুনে আমি কিছুটা ধারনা করছি গাড়ীতে একজন অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। সব শুনে ছেলেকে বললাম, তুই এতো কিছু করলি, তোকে যদি ধরে নিয়ে যেত! ছেলের উত্তর, আমাকে ধরবে কেন! আমি কি কোন অন্যায় করেছি! এ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী হলে আমি নিজেই সাইড দিতাম। ওর কথাগুলো শুনে গর্বে বুকটা ভরে গেলো।
সাবাস বেটা। এগিয়ে যা। আমি আছি তোর সাথে!

[তানবীর সিদ্দিকীর স্ট্যাটাস থেকে]