ভালবাসার গতপর্বে বলেছিলাম, বাবা মায়ের সাথে সন্তানের দেখাসাক্ষাৎ হয় পালাপার্বণ এলে। অসমাপ্তির ভালবাসা হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে পূর্ণতা পেতেই থাকে। মা কখনওই সন্তানকে ভুলে যেমন থাকতে পারেননা, তেমনই মায়ের ভালবাসা কখনওই ফুরায়না। ভালবাসার সংজ্ঞা দিয়ে আর যাই হোক, মায়ের ভালবাসা কখনওই সংজ্ঞায়িত করা যায়না। সন্তান দূরে থাকুক বা কাছে থাকুক, মায়ের বুকের ভেতরেই থাকে সবসময়, যেমন করে মা সন্তানকে নিজের ভেতরে ভ্রূণ থেকে বড় করেন।
আমাদের সমাজে এখন প্রযুক্তি যেমন তরুণ প্রজন্মকে আঁকড়ে ধরছে, তেমনই এদেরকে করছে অনেকখানিই বিকল। এখনকার পারিপার্শ্বিকতা থেকে যেমন শিশুর বেড়ে ওঠা থমকে দেয়, খেলার মাঠ পায়না উঁচু উঁচু ইটের দালানের দখলের কারণে। তাই এই শিশু হারাচ্ছে মুক্ত শৈশব। কখনো যদি খেয়াল করে দেখেন, দেখবেন এদের দোষ নেই। এরা যখন খোলা মাঠে যায়, এদের কিছু হয় বসে থাকে হাতে কিছু ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে, কিছু মুক্ত বাতাস, মুক্ত মাঠে জীবন উপভোগ করে। কখনো কি মনে হয়না এদের দরকার ভালবাসার চাদরে মোড়ানো শৈশব, আদর মাখানো মমতা ভরা আদর। শুধুই ইলেকট্রনিক গ্যাজেটেই এদের জীবন সীমাবদ্ধ থাকার না। বাড়ন্ত শৈশব হারিয়ে এদের ভবিতব্য হচ্ছে ভালবাসাহীন। প্রযুক্তির বাহনে বাবা মা কথা বলছে সন্তানের সাথে স্মার্ট ফোনে। সেখানেই আটকে আছে এই প্রজন্মের ভালবাসা। মনের ভালবাসা এদের ভাগ্যে জোটেনা।
প্রযুক্তিময় জগতে এই কালের শিশুদের ভাগ্যে নানা নানী, দাদা দাদীর আদরের বদলে জোটে nintendo, ps4 এর ভালবাসা। এদের নিয়েই কেটে যায় সময়, চলতে থাকে বড় হওয়া। বাবা মা কাজে, বাসায় বুয়া, স্কুল থেকে ফিরে পড়া, টিচারের কাছে পড়া, তারপরে এসব প্রযুক্তির প্রেম। বাংলাদেশে জানিনা সম্ভব কিনা, তবে বিলেতে বয়স বুঝে প্রযুক্তি বাচ্চাদের চলতে দেয় ইন্টারনেট জগতে। চাইলেই যেখানে সেখানে যাওয়া যায়না। এই একটা রক্ষে!!!
বাংলাদেশে আমি কখনওই শিশুদের হাতে প্রযুক্তি তুলে দিতে মানা করবো না, বাধা দেবোনা। আমাদের যা শিক্ষাব্যবস্থা, তাতে যদি প্রযুক্তির প্রতি ভালবাসায় শিশুদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ে। বিজয়ের শিশুশিক্ষা কার্যক্রম আমি তাই বলবো যথেষ্ট যুগোপযোগী এবং শিশুদের প্রযুক্তির প্রতি করবে আকৃষ্ট। এটা দরকার, নাহলে এরাও প্রযুক্তিকে ভয় পাবে।
প্রযুক্তির প্রতি ভালবাসার সাথে সাথে দরকার দেশের প্রতি ভালবাসা, দেশকে জানা, দেশের সংষ্কৃতিকে জানা। নাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কোন শিক্ষাই সম্পূর্ণ হবে না। শিক্ষায় যদি ভালবাসা নাই থাকে, তাহলে কি করে শিক্ষা আসবে জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মে!!!!

তৌফিকুল করিম সুহৃদ
লেখক: ডিরেক্টর, ফিঙ্গারটিপস ইনোভেশন লিমিটেড

আজ লেখাটির দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হলো। প্রথম পর্ব নিচে দেয়া হলো:

প্রযুক্তিতে ভালবাসার বেগময়তা