নিজেদের স্যাটেলাইট। আমাদের দেশের নিজস্ব। অবশ্যই এক গর্বের ব্যাপার। এই গর্ব আমরা করতে পারছি কয়েকজনের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আমাদের সাবেক মন্ত্রী রাজিউউদিন আহমেদ রাজু’র কালেই শুরু হয়েছিল স্বপ্নের বীজ বোনা। আস্তে আস্তে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে জোর পরিকল্পনা করতে ব্যস্ত সময় কাটান তারানা হালিম। সাথে জুনায়েদ আহমেদ পলক। সবশেষে মোস্তাফা জব্বার। সবকিছুর উপরে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় তাগাদা দিয়ে কাজটা শেষ করিয়েছেন। অপেক্ষার প্রহর গোণা শেষ হচ্ছেনা। অপেক্ষার প্রহর শেষে আকাশে ঘুরতে থাকবে আমাদের স্যাটেলাইট।
যত কিছুই বলুক না কেন দূর্জনে, নিজেদের জিনিষ নিজেদেরই। তাই এই স্যাটেলাইট নিয়ে আমাদের গর্ব বা অহংকার, যাই বলা হোক না কেন, আমাদের আদিখ্যেতা একটু বেশী হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমরা আবার আবেগী জাতি কিনা।
এখন আমাদের ভাবনা চিন্তা প্রসারিত করতে হবে। একটি স্যাটেলাইট হয়েছে, এর কার্যকাল মাত্রই পনের বছরের। মাত্রই বললাম কথাটা, কারণ, আমাদের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে প্রযুক্তিগত চাপ বাড়বে। আর তাই আমাদের দরকার হবে আরো নিজেদের স্যাটেলাইট। শুধু একটা দিয়ে আর কতটা চলবে? বা কতদিনই বা চলবে?
এখন থেকেই আমাদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে শুরু করতে হবে অনেকটাই সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি নিয়ে। বর্তমান সরকারের সাফল্য তাদের সময়োপযোগী চিন্তাভাবনা আর তার প্রতিষ্ঠা বা বাস্তবায়ন। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের তৈরি করতে হবে। বিদেশ নির্ভর নীতি থেকে বেরিয়ে নিজেদেরকে স্বাবলম্বী করা জরুরী। তাই প্রযুক্তিনির্ভর জাতি হতে হলে নিজেদের মেধা মনন প্রযুক্তিতে একটু বেশীই দিতে হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি, মোটামুটি সারা বিশ্বের সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে ছুটে যাচ্ছে অবিরাম। বিদেশে থাকা বাচ্চারা যদি প্রাইমারী স্কুল থেকেই কম্পিউটার আর প্রোগ্রামিং এ হাতে খড়ি পাচ্ছে, সেখানে আমরাই বা কেন পিছিয়ে থাকবো। আমাদের নিজেদের গরজেই আমাদের সন্তানদের বিশ্ব বাজারে প্রযুক্তি নিয়ে পারদর্শী করতে, ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী করতে হবে। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, অংক আর ইংরেজি, অন্তত এই চারটা বিষয়কে ভয় না পেয়ে পড়ালেখা করতে হবে। আমাদের ইংরেজি ভীতিই আমাদের অনেকখানি পিছিয়ে দেয়। তাই শিক্ষাব্যবস্থা এমন করে করা দরকার, যেন আগ্রহ বাড়ে। স্কুল পালানোর হার নামে। শখের বশে, অ্যাডভেঞ্চার করতে জীবনে এক দুইবার স্কুল পালানোই যায়, কিন্ত সেটা যখন দৈনন্দিন হারে বাড়ে, তখন কিন্ত পড়ালেখায় আগ্রহ, মনোযোগ দুই কমে যায়, আস্তে আস্তে ভাল ছেলেও পড়ালেখার চাপে নিজেকে, তাল সামলাতে না পেরে আস্তে আস্তে হারিয়ে যায়। গেম খেলা দিয়ে শুরু করে, প্রোগ্রামিং করতে শিখলেই আস্তে আস্তে নিজেরাই গেম খেলার সফটওয়্যার বানাবে। আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন পদ্ধতি নিতে হবে, সুযোগ দিতে হবে। সুযোগ পেলেই এদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়বে। প্রযুক্তি শুধু আমাদের কম্পিউটার চালানোই না। প্রযুক্তিই বাড়াচ্ছে প্রযুক্তির পরিধি।
পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের আশা অনেক। তাদের যেমন মেধা অনেক, প্রতিভা অনেক, সেই মেধা আর প্রতিভা দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হতে তারাই এগিয়ে আসবে। আমাদের আজকের বাংলাদেশ যেমন।তিলে তিলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হতে পেরেছে, তেমনই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ অনেক অনেক কিছুই আমাদের নিজেদের হাতেই হবেও। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির সম্মিলন হবেই আমাদের আগামীতে। বাংলাদেশ ভাল থাকবে তখনই, যখন দেশের প্রতি আমাদের মায়া বাড়বে। দেশকে স্থিতিশীল রাখতেই হবে। তা রাজনৈতিক হোক, আর সামাজিক বা অর্থনৈতিকই হোক না কেন! স্থিতিশীল জাতি হলেই সবকিছুই করা সম্ভব। আমাদের রাষ্ট্র আমাদের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে অনেক আশাবাদী, অন্য সব রাষ্ট্রর মতই। তাই আশা করার ইচ্ছাটাও অনেকটাই বেশীই থাকে। প্রাপ্তি আর আশার সামঞ্জস্য আছে বলেই আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আমাদের সামনের দিনগুলিও হবে উজ্জীবিত আর উজ্জ্বল!
প্রযুক্তি মানেই যেমন ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম না, তেমনই প্রযুক্তি কেবলই সামাজিকতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণসংযোগ বাড়ানো না। জানার মাঝে, শেখার মাঝেই প্রযুক্তির ব্যাপকতা। আজকে আমরা ড্রাইভারবিহীন গাড়ীর বাস্তবতা দেখছি। দশ বছর আগেও যা ছিল স্বপ্নাতীত, শুধুই কল্পনা। সেই কল্পনাই এখন বাস্তবতা। সেজন্যই আমার প্রত্যাশা তরুন প্রজন্মের কাছেই অনেক। প্রাপ্তিও আসবে। জীবদ্দশাতেই দেখে যাবো।

তৌফিকুল করিম সুহৃদ
লেখক: ডিরেক্টর, ফিঙ্গারটিপস ইনোভেশন লিমিটেড