তাজিন আহমেদ…
সবসময় হাসি মাখা এই মেয়েটির আগে আমি চিনতাম তার মা দিলারা জলি আন্টিকে।আমার বাবা আর জলি আন্টি একই অফিসে কাজ করতেন।অনেক আদর করতেন আমাকে।
তারপর কেটে গিয়েছে অনেক বছর।

তারপর বিয়ের পর আরন্যক এর কারণে এবং ভোরের কাগজের জন্য তার লেখার ফ্যান হয়ে গেলাম আমি।
তার ভদ্র মার্জিত ব্যাবহার, আর মুখে সব সময় মিষ্টি হাসি মুগ্ধ করতো আমাকে।

২০০১ সালে আমার প্রচারিত প্রথম নির্মাণ আমার লেখা নাটক “এক জীবনে” এর প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করলেন তিনি।
তার অভিনয়ে চোখে জল এসেছিল।

সেই থেকে সখ্যতা।আমার অজস্র নাটক আর সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন এই মিষ্টি মেয়েটি।
তার অনেক গুণ।লেখা,আবৃত্তি,অভিনয়,উপস্থাপনা..

একবার আমাকে একটি স্ক্রিপ্ট দিয়ে বললেন,”চয়ন আপু,আমার দেখা তুমি বেষ্ট ডিরেক্টর। আমার একটা স্ক্রিপ্ট ডিরেকশন দিবে তুমি? আমি খুব খুশি হবো।”
মনে আছে নাটকটির নাম ছিল “দুই হৃদয়”.অভিনয় করেছিলেন তারিন আর শোয়েব।তারিনের সেই আবেগ ময় দারুণ অভিনয় চোখ ভিজিয়েছিল।
দারুণ স্ক্রিপ্ট ছিল।লিখতো খুবই ভালো।

তারপর তার সাথে ৭১ টিভিতে অনেক টক শো তে বসা হয়েছে।
স্পেশাল কোন।শো হলেই আমাকে খুঁজত।

দেখা হলেই অনেক আড্ডা গল্প।
ফোনে কথা হত ২/৩ দিন পর পর।
এইবার নারী দিবসের একটি কাজে তাকে আমি একটি সীন এ কাষ্ট করেছিলাম।কী যে খুশি হলো!!
সেজে গুজে এলো।বিজরী, দীপা আমি সেলিম ভাই সব্বাই আড্ডায় মেতে উঠেছিলাম।সেটাই শেষ আড্ডা।

শেষ কথা হয়েছিল ১৫ মে।সেদিন আমার স্যুটিং ছিল না।
আগের রাতে বললো,চয়ন আপু,উত্তরা এলে এসো।কথা আছে।কফি খাবো আমরা।১৬/১৭ স্যুটিং থাকাতে বললাম, ২০ তারিখের পর আমরা বসবো।সেটাই শেষ কথা।আহারে! কী কথা ছিল যা বলতে চেয়েছিল! আর শোনা হবেনা কখনো?
চয়ন আপু বলে মিষ্টি হাসি দিয়ে জড়িয়ে আর ছবি তুলবেনা কেউ। কেউ বলবেনা,চয়ন আপু,বুকে এত কষ্ট কেন?

তাজিন,
বিকেল থেকে রাত আজ তোমার সাথেই ছিলাম।
কত্ত সুখ দুখের কথা মনে পড়ে গেলো! আমি যতোনা ভালোবাসতাম তার চেয়েও তুমি আমাকে অনেক বেশি.. সত্যিকারের ভালোবাসতে..
অনেক অভিমানী ছিলে তুমি! বিশাল বিশাল টেক্সট করতে ।উত্তর না দিলে কষ্ট পেতে ,রেগে যেতে।
সব সব মনে পড়ে যাচ্ছে।কত্ত কী!!

সত্যি জীবনটা অনেক ছোট।এক জীবনে এত কষ্ট পেলে তুমি!!
কিছুই করতে পারিনি তোমার জন্য।ক্ষমা করে দিও।
আমি সত্যি লজ্জিত।
অনেক কিছু করা উচিত ছিল।পারিনি।

পরপারে সুখে থেকো তাজিন।ওইখানেই তুমি অনেক ভালো থাকবে! অনেক দিন শান্তিতে ঘুমাতে পারোনি।
আজ তুমি পরম শান্তিতে ঘুমাও..
তুমি কি দেখতে পাচ্ছো কত্ত মানুষ,তোমার কত কলিগ এসেছে তোমাকে দেখতে! সবাই তোমাকে কত ভালোবাসে!
অনেক প্রার্থনা। অনেক ভালোবাসা।
চোখ ভিজে যাচ্ছে জলে!

আন্টির জন্য চিন্তা হচ্ছে। অনেক অনেক প্রার্থনা।
জানি, পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ!!
আহ!! কী কষ্ট!!

আমার লেখা “এক জীবনে ” নাটকের মত বলতেই হয়..
“এক জীবনে এত কষ্ট কেন বলোতো!!”

নির্মাতা
চয়নিকা চৌধুরীর স্ট্যাটাস থেকে