০৬.১২.১৮

জীবনে চলতে ফিরতে নানা ধরনের আজব অভিজ্ঞতা হয়। আগে বিষয়গুলোতে খুব মন খারাপ হতো। এখন ভালোই লাগে। বিভিন্ন মানুষ দেখতে পারি। ভাবছি সেইসব ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করবো।
সেদিন বিকালে গিয়েছিলাম কোনো একটি পার্লারে চুল ট্রিম করতে। আমার একটি পরিচিত মেয়ে আছেন, সাধারণত ওই মেয়েটি ছাড়া আমি কোনো সার্ভিস নেই না। মেয়েটি ব্যস্ত থাকার কারণে আমি অপেক্ষা করছিলাম। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে আমি নিজের ভুবনেই থাকি। মোবাইলে ফেসবুক কিংবা অনলাইন পেপারগুলো ঘাটাঘাটি করি। অযথা কে কী করলো, সেই অতি আগ্রহ আমার কখনোই নেই।
আর আমাকে যারা চিনেন, তারা জানেন-আমি হাসি-খুশি থাকতে পছন্দ করি। অযথা প্যাচার মতো মুখ করে আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দু:খি মানুষ বোঝাতে যেমন আমি চাই না, ঠিক তেমনি অন্যকে আমার অবস্থান বোঝাতে গোমড়া মুখ করে নিজের পান্ডিত্য যাচাই আমার পছন্দ নয়। যাহোক আসল কথা বলি, পাশের চেয়ারে একজন ভদ্রমহিলা চুল কাটছিলেন। মাঝবয়সী, স্বাস্থ্য ভালো। শুধু ভালো বললে ভুল হবে, একটু বেশি ভালো। মহিলা আমাকে ডেকে ধমকের সুরে বললেন “শুনুন-আপনার হাসি মুখ আমি তখন থেকে খেয়াল করছি, দেখেই বুঝা যাচ্ছে আপনি জীবনে দু:খ-কষ্ট কি জানেন না। বেশ সুখী সুখী চেহারা। কোনো টেনশন নেই, চিন্তা নেই”- কথাটি উনি দুবার রিপিট করলেন। আমার মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে প্রথম। তারপর উত্তরে বললাম-“আলহামদুলিল্লাহ, দোয়া করবেন” … এতে মহিলা রেগে আরো কি কি যেন ধমকের সুরে বললেন। আমার মাথায় কিছুই ঢুকলো না। কিছুক্ষন পরে আমি দেখছি উনি মোটামুটি লোক জড়ো করে বলতে শুরু করলেন- ‘কীভাবে এতো হাসিখুশি, থাকে, আমি তো পারি না। এই যে আমি এখানে আমি বসে আছি আমার কতো কাজ, কতো হাজারটা ঝামেলা, মাথায় নিয়ে ঘুরছি ….ইত্যাদি, ইত্যাদি …’ আমি আর শুনলাম না, মানে শুনতে চাইলাম না। আমার মেয়েটার কাজ শেষ, আমাকে ডাকছে,আমি সেই দিকে ব্যস্ত। যখন চলে আসবো, তখন মনে হলো-একবার দেখি তো উনি কী করছেন- বেচারি এসেছিলেন শুধু চুল কাটতে, কিন্তু এখন সে ফেসিয়াল, হেয়ারট্রিটমেন্ট, মেনিকিউর, পেডিকিউর করে তবেই বাড়ি যাবেন। নতুন করে সব স্লিপ কাটছেন। চেচামেচিতে বেচারির মাথা ব্যাথা করছে হয়তো, তাই ওদেরকে চায়ের অর্ডার করছেন ….. ‘একটু কড়া করে লিকার দিয়ে চিনি কম দিয়ে এখনি এক কাপ চা এনে দাও তো .. ’
আমি বাড়ি চলে আসলাম ………….

নিশাত মাসফিকা