শীতের সকালের হাল্কা ঠান্ডা ভাবটা আসতে শুরু করেছে। গত ক’দিন ধরেই রাতে বেশ ঠান্ডা পড়ছে। বিলেতের আকাশে রাতের তারা গুনতে চেষ্টা করে, সময় পার করতে গিয়েই ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগলো। হুট করেই সিলভি’র মনে হলো ঢাকায় থাকাকালীন সময়ের কথা। এমন ভোরে গায়ে মা থাকলে কাঁথা মুড়ে দিতেন, যেন ঠান্ডা ধরে না বসে। এখন বিলেতে মা’ও নেই, কাঁথাও নেই। হিটিং সিস্টেম আছে, আর আছে ডুভে। তাও আবার ঠান্ডা টের পেলে নিজেই গায়ে জড়িয়ে ঘুম দেয় সিলভি। ঢাকার বাসায় উঠানে দাঁড়িয়ে অনেক সময়ই এভাবে তারা ভরা আকাশ দেখতো। এখন, বিলেতে এসে, খোলা আকাশ ভাল করে দেখা যায়, তবে উঠান নেই, হয় জানালা ধরে, নাহলে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে দেখা লাগে।
ইমরান আজকে এখনো বাসায় আসেনি। ফিরতে দেরী হবে। সিলভিরও ঘুম আসছেনা। হাল্কা একটা তন্দ্রা ভাব ছিলো, সোফায় শুয়ে শুয়ে সুনীল এর পূর্ব-পশ্চিম পড়তে পড়তে তন্দ্রাটা আসছিলো। হঠাৎ করেই ফোন বেজে উঠলো। ঢাকা থেকে একটা ফোন পেয়ে নাম্বার না-চিনে ধরলোও কলটা। তানিম এর কল!!! তানিম!!!! এত বছর পরে আবার!!!! নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না, কিভাবে, কোথা থেকে তানিম আসলো!!! নাম্বারই বা পেলো কিভাবে? ইশরাত দেবেনা। একমাত্র ইশরাতই জানে তানিমের সাথে সিলভির সম্পর্ক, প্রেম আর ভাল লাগার ব্যাপারে। সিলভি বুঝতে পারছিলো না, ও আসলেই কি তানিমকে ভালবাসে, নাকি সেটা শুধু বন্ধুত্ব, নাকি অন্য কিছু! ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভাই ছিলেন তানিম, আবার পাড়াতেও পাশের রাস্তাতেই থাকতেন। একমাত্র ছেলে, ভাইবোন ছিলো না। বাবা একটা মাল্টি ন্যাশনাল ফার্মে চাকরী করতেন। মা ছিলেন কলেজের লেকচারার। আন্টিকে খুবই ভয় পেতো সিলভি। কখনও স্কুল থেকে বের হলে, দেখা হলে শুধু সালাম দিয়েই চলে যেতে চেষ্টা করতো। যদিও আন্টি সবসময়ই আদর করে গালে হাত দিয়ে চুমু দিয়ে দিতেন। তানিম কে সিলভি আসলে তেমনভাবে চিনতোও না যদি না সেদিন হুট করেই মিন্টুদের সামনে এসে ওকে না সরিয়ে নিয়ে যেতেন। হঠাৎ করে ঘটনাটা মনে হবার পর থেকেই সবগুলো ঘটনা ছবির মতো ভেসে যাচ্ছে চোখের সামনে। বিকেলে কোচিং ক্লাস থেকে ফিরছিলো সেদিন একা একা। রুনু যায়নি সেদিন, জ্বর ছিলো বলে। নাহলে দু’জন একসাথেই রিক্সায় করে আসে কোচিং থেকে। সেদিনও রিক্সাতেই ছিলো, শুধু একা। ফরিদের দোকানে নেমে নিজের কয়েকটা হাল্কা কেনাকাটা করে ব্যাগ নিয়ে হেঁটে আসছিলো বাসার দিকে। মিতালী স্কুলের কোনার লাইটটা জ্বলছিলো না। গনি ভাইকেও দেখা যাচ্ছিলনা।হাল্কা হিম হিম ভাব ছিলো, সন্ধ্যা হয়েছে বলে। নভেম্বরের পঁচিশ তারিখ, মনে আছে এখনো। হঠাৎ করেই সিলেটী বাড়ীর দেয়ালের কাছে আসতেই কে যেন ওড়নাটায় একটা টান দিলো। ভয়ে হাতের থেকে ব্যাগটা পড়ে গিয়েছিলো। ওড়নাটা ধরে একটা সিনেমার ভিকেন টাইপ হাসি দিয়ে কটকটে গোলাপি শার্ট আর সাদা প্যান্ট পড়া মিন্টু সামনে এসে দাঁড়ালো। সিলভি’র তো শরীর কাঁপছে। ভয়ে। ওড়না নেই গায়ে। লজ্জায় বুক ঢেকে রেখেছে দুই হাতে। মিন্টু’র হাসি আর থামে না। আবার বলে ভয় পেলে সিলভি? কোন কিছুই ভাবতে পারছিলো না কি কিরবে! শুধু মনে হচ্ছিলো বলছে, ওড়নাটা দিয়ে দেন। হাসি থামার লক্ষণ ছিলো না মিন্টুর, আর সাথে একটু দূরে দাঁড়িয়ে তাতে সায় দিয়ে হেসে যাচ্ছিলো ওর চেলাগুলো। ঠিক তখনই হঠাৎ করেই কে যেন গায়ের ওপর একটা জ্যাকেট চাপিয়ে ধরে মিন্টু আর আমার মাঝে দাঁড়িয়েছিল। মুখ দেখিনি তখনও, কিন্ত মিন্টু ঘাবড়ে গিয়েছিলো। তানিম খুব ঠান্ডা গলায় শুধু একটা কথা বলেছিলেন মিন্টুকে। আর কখনো যদি তোকে দেখি এই মেয়েটার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিস, তাহলে মনে রাখিস, তোর মেশিন আর থাকবেনা। মিন্টুর দৌড়ে যাওয়াটা ছিলো দেখার মতো। সিলভি’র তখন কিন্ত হাসি আসেনি, এসেছিলো কান্না। ভেউ ভেউ করে কান্না। তানিম ভাই ওড়নাটা হাতে দিলেও কান্না থামছিলোই না। উনি যখন দুকাঁধে ধরে দাড়ালেন সামনে, তখন আবার আরেফিন চাচা দেখে ফেলে তানিমকেই ধমক দিচ্ছিলেন। আর সিলভি’কে বলছিলেন, মা বাসায় যাও। যদিও উনি কান্নার কারণ বা কোন কথাই জানেনও না, জিজ্ঞেসও কিরলেন না। কিন্ত তানিম সেদিন মাথা নীচু করে চলে গিয়েছিলো নিজে। খুব অপরাধী মনে হচ্ছিলো কেন আরেফিন চাচাকে বলতে পারলো না যে তানিম কিছু করেননি, বরং আজকে তানিমই আমাকে বাঁচিয়েছেন মিন্টুদের কাছ থেকে। তানিম কিন্ত সরে গেলেও, যাওয়ার আগে বলেছিলো, তাড়াতাড়ি বাসায় যাও। জ্যাকেট কিন্ত আমারই গায়ে। ওড়না হাতে নিয়ে ব্যাগ কাঁধে করে বাসায় চলেও এসেছিলাম সেদিন যন্ত্রের রোবটের মতো।
পরদিন ইশরাতকে বলার পরে ইশরাতের কি বকা! কেন আমি আরেফিন চাচাকে বলিনি কিছু। অযথা ভাল কাজ করেও তানিমই বকা খেলো। কোন কাজেরই না সিলভি। তখনও কিন্ত ইশরাত জানতো না তানিমের জ্যাকেট বাসায়। কোচিং থেকে বাসায় গিয়ে জ্যাকেট দেখে ওর মেজাজ আর বকার মাত্রা আরও বেড়েছিলো। আর আমাকে সে-ই জ্যাকেট নিয়ে কত খোঁচা!!! একদম নাকি গুলাম এর আমির খান রানীর মতো, আবার বলে ডিডিএলজি’র সিমরান রাজ!! প্রায় পুরো সপ্তাহের অপেক্ষার পরে সাহস করে একদিন ইশরাতই নিয়ে গিয়েছিলো আমাকে তানিমদের বাসায়। ছোট তিনতলা বাড়ী। গিয়ে দেখি এত বড়বাড়ীতে মাত্র তিনটা মানুষ থাকে। তাও আবার তিনতলা জুড়ে। নীচের তলায় গাড়ী, আর কিচেন, ড্রইংরুম, ডাইনিং রুম, দোতলায় আন্টিরা, আর তানিম একা তিনতলার বাসিন্দা। আমার বুক কাঁপছিলো। আন্টি যদি রেগে যান। না রাগ তো করেনইনি, উল্টো সব শুনে বলেছিলেন, সাহস রাখতে সবসময়, ভয় না পেতে। তানিম ছিলো না বাসায়। একটু পরেই এসেছিলো। আমার সামনে দাঁড়ায়নি। মাথা নীচু করে জ্যাকেট দেখেও না নিয়েই ওপরে চলে গিয়েছিলো। আমার খুব মন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। পরে আন্টি আর ইশরাতই আমাকে বলেছিলো ওপরে গিয়ে জ্যাকেট দিয়ে কথা বলে আসতে। তিনতলায়। সেদিন মনে মনে ইশরাতকে তখন এমন সব গালি দিচ্ছিলাম যা কিনা সবসময়ই বুয়াদের দিতে শুনেছে। ভাগ্যিস কেউ সিলভি’র মন পড়তে পারছিলো না। দুরুদুরু বুকে ওপরতলায় গিয়ে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে নক করেছিলো। তানিম বুঝেনি আমি, মনে করেছিলো ওদের বাসার কাজের মেয়ে পরী। একটা ধমক দিয়ে বলেছিলো, পরী, ফাজলামি করা থামিয়ে ভেতরে আয়। আস্তে আস্তে সিলভি ঢুকেছিলো ঘরে। হাতে জ্যাকেট। ঘামছিলো, শীতের বিকেলেও। হঠাৎ করে ঘুরে সিলভিকে দেখেই থমকে গিয়েছিলো তানিম। কি বলবে না বলবে, একটু ইতস্তত করে সরি বলে দিয়েছিলো, বুঝতে পারেনি সিলভি, সেজন্য। ভেবেছিলো পরী। তাই এভাবে ধমক দিয়েছিলো। সিলভিও এইবার একটু মজা পেয়েছিলো এত সাহসী মানুষ ঘরে যে এমন ইতস্তত করতে পারে, সেটা দেখে। হেসে দেয়ার পরে, হাতে বাড়ানো জ্যাকেট নিতে তানিমও তখন এগিয়ে এসেছিলো। জ্যাকেট নিয়ে একবার সিলভি’র দিকে তাকিয়ে সোজা বললো, এইবার বেশ সাহস নিয়ে বললো, সেদিন কিছু বললে না কেন আরেফিন চাচা কে। সিলভি মাথা নীচু করে ফেলেছিলো। বুঝতে পারছিলো না কি বলবে! তানিম আবারও সামনে এসে এবার সরাসরি দু’হাত দিয়ে ওর থুতনীতে রেখে মুখ তুলে তাকিয়ে বললো, “এই মেয়ে আমি কি বাঘ না ভাল্লুক, যে চোখ বন্ধ করে ফেলেছো! লজ্জা পাচ্ছো কেন?” বলেই কপালে একটা চুমু দিয়ে সরাসরি বলে বসেছিলো, “আমি তোমাকে খুব পছন্দ করি। তুমি কি আমার বন্ধু হবে? আমি কিন্ত প্রেমিকা বলিনি, সেটা বন্ধু হলে পরে যদি মনে হয় আমরা প্রেম করতে পারি তাহলে তখন দেখা যাবে।” সিলভি লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছিলো, ঘুরে যেতে গিয়েই দেয়াল আর দরজার সাথে একটা ধাক্কা খেয়ে ব্যাথা পেয়ে আবারও সেই তানিমের হাতেই পড়লো। এবার তানিম অবশ্য কিছু করেনি। সোজা করে দাঁড় করিয়ে, বললো, ঘাবড়িও না আমি কোন সুযোগ নিচ্ছিনা। তোমাকে আমি আসলে অনেক পছন্দ করি, ভালবাসি, তাই সরাসরি কথাটা তোমাকেই বলেছি। ভয় পাওয়াতে বা উপকার করেছি বলে না।” লাজে রাঙা হয়ে গিয়েছিলো সিলভি। ছেড়ে দিতেই, সিলভি তাড়াতাড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নেমেই পালিয়েছিল। আন্টিকে বলেই ইশরাতকে নিয়ে বের হয়ে এসেছিলো। বের হতেই ইশরাতের জেরা। কি হলো, কি হলো! এত তাড়াহুড়া করছি কেন? শুধু বলে ফেলেছিলাম আমাকে কিস দিয়েছে! বাকি বিত্তান্ত না শুনেই ইশরাতের চিৎকার আর ঠাট্টা শুরু! বাসায় ঢুকে পরো কথা শুনে তারপর মন্তব্য ছিলো, ” হায় ম্যা মর যাওয়া!” ভুল হিন্দি দিয়ে কি যে ডায়লগ দিলো সেইটা নিজেও জানে না।
এরপর থেকে তানিম কে দেখলেই সিলভি’র একটা লজ্জা লজ্জা লাগতো। কেন সেই কারণ অবশ্য কখনও বুঝতে পারেনি।
এত বছর পরে আজকে হুট করে তানিমের এক ফোনে সবকিছুই কেমন যেন ওলোট পালোট হয়ে গেলো। অনেক অনেকগুলো বছরের অনেক ঘটনা সব উড়ে আসছে মনে। কত কথা, কত বিকেলের আড্ডা, কত একসাথে ঘুরে বেড়ানো! সিলভি’র সিল্কি লম্বা চুল, স্লিম ফিগার, সবকিছুই সবসময়ই আকর্ষণ করতো অনেককেই, কিন্ত তানিম কখনও কোন সুযোগ নেয়নি, কোন বাজে ইংগিতও কখনও করেনি। বরং সবসময়ই একটা দুরত্ব বজায় রাখতো সম্পর্কে, শুধু হাতে হাত রাখে, আর কখনও বা খুব আবেগে জড়িয়ে ধরা, এর বেশী কখনও না! বিয়ে করতে চেয়েছিলো। কেন যেন সিলভি’র বাবা-মা রাজী হলেন না। তানিম যখন সিলভি’র কাছে শুনেছিলো যে সিলভি’র বাবা-মা অপছন্দ করেছেন ওকে, আর একটা দিনও কোন রকম জোর খাটায় নি। ভীষণ আত্মসম্মানবোধ ছিলো। কেন অপছন্দ করেছিলো সেটা মানতে পারেনি। তানিম নাকি কখনও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেনা, আদরের দুলাল। তানিম খুবই অবাক হয়েছিলো শুনে। সিলভি’র জানা ছিলো না তানিম যে নিজের ব্যবসা করে বন্ধুদের সাথে। বিভিন্ন স্কুলে বাচ্চাদের খেলার জিনিস সাপ্লাই দেয়। ইশরাত জানতো, সিলভি’র কাছে ইশরাতই বলেছিলো। তানিমের নিজের টাকায় কেনা গাড়ী। সেটাও জানতো না কেউই। আসলে তানিমের মাঝে কখনও কোনকিছু নিয়ে অহংকার করতে দেখেনি কেউই। ইউনিভার্সিটির পড়া শেষ করার আগেই এত কিছু করেছে, অথচ কাউকে সেটা নিয়ে বড়াই করে কিছু বলেনি, টাকার গরম দেখায়নি।
আজকে এত বছর পরে কল দিলো, কিন্ত একবারের জন্যও বলেনি দেখা করবে। ও রোমিং ফোনে কল দিয়েছিলো, লন্ডনে থেকে। একবারও বললো না দেখা করতে চায়। শুধু বললো, সিলভি’র একটু গলার আওয়াজ শুনতে কল দিয়েছে। সেই সময় সিলভি’র সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। সিলভি’র বাবা-মা অপছন্দ করেছিলেন বলে ইশরাত খুব অবাক হয়েছিলো যখন তানিম আর ওর বাবা মা’কে পাঠায়নি সিলভি’র বাড়ী, ভুল ভেঙে দিতে। অপমান নিজেই হয়ে সরে গিয়েছিলো। আজকে যখন শুনলো এখনো একা আছে। বুকের ভেতর একটা কেমন যেন মোচড় দিলো সিলভি’র! এতটা কোনভাবেই আশা করেনি। ভেবেছিলো হয়তো বিয়ে করে থিতু হয়েছে কোথাও। একবার মনে হয় ইশরাত বলেছিলো, কিন্ত খুব শিওর ছিলো না। আঠারো মিনিট বায়ান্ন সেকেন্ড কথা বলেছে, সিলভি ই বলেছে, তানিম শুনেছে, হু হা করে উত্তর দিয়েছে। নিজের কথা শুধু বললো একটুখানিই। বাবা-মা বেঁচে নেই এখন আর। একাই থাকে, ধানমণ্ডি র নিজের ফ্ল্যাটে। বিয়ে করেনি কেন, প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো উল্টো, কে বিয়ে করবে? ব্যবসার কাজে লন্ডনে আছে এখন, প্রায়ই আসে। এখনো বাচ্চাদের নিয়েই কাজ করে। বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চাদের কম্পিউটার শেখানোর জন্য নানান প্রোগ্রাম তৈরী আর শেখানোর ব্যবসা।
সিলভি’র মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না, কিভাবে এতগুলো বছর ধরে সেই প্রত্যাখ্যান বুকে নিয়ে চুপচাপ জীবন পার করে দিচ্ছে তানিম। খুব খুব খারাপ লাগছে ওর এখন। কিছু কি করতে পারবে? কখনও কি সামনে দাঁড়িয়ে একবারও মান ভেঙে দিয়ে আসতে পারবে? ইমরানের সাথে বিয়ের পরে বাচ্চা না হওয়ায় শাশুড়ী অনেকবারই ইমরানকে বিয়ের ব্যাপারে অনেক কথা বলেন। নিজের সমস্যার কথা জানে বলে মা’কে কিছু উত্তর দেয়না। দেশ থেকে সিলভি’র সাথে বিদেশে চলে এসেছে রাগ করেই। মা মারা গেলো পরে একবার দেশে গেলো। তাও চার বছর পরে। এইটুকুই। এমনই একটা জীবনে আছে সিলভি। কোন উত্তাপ, উচ্ছাস সব যেন হাতিয়ে গেছে। ইমরানের বাবা-মা আর সিলভি’র বাবা-মা পরিচিত, অথচ দুই পরিবারের কেউই কোন বিষয়ে কোন কথা বাড়ায় না। মেনে নেয়াতেই যেন একটা জীবন। সিলভি’র আজকে খুব অনুতাপ হচ্ছে। খুব খারাপ লাগছে। একটা জীবন ওর জন্য নষ্ট হয়েছে। অথচ একবারও সেই মানুষ টা একটা কিছু বললো না! তানিম কে মনে মনে আজকে আরও অনেক বেশী ভালবেসে ফেলেছে সিলভি। সম্মান আর ভালো লাগা থেকে আজকে বুঝতে পারলো, ভালবাসা অনেক বেশী ছিলো তানিমের জন্য, যদিও তানিমের ভালবাসার কাছে হেরে গেলো সিলভি। গাল বেয়ে পানি পড়ছে কি!!! ঝাপসা লাগছে! ডুভেতে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেললো সিলভি!!! ভালবাসার কান্না!!!!

তৌফিকুল করিম সুহৃদ

লেখক:
Director
Fingertips Innovations Ltd.