পঞ্জিকার পাতায় শরৎ বিদায়ের পথে। তবুও নাগরিক জীবনে সাদা মেঘ আর কাশফুলের কথা মনে করিয়ে দিতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় শরৎ উৎসবের আয়োজন করেছে, ছায়ানট। যেখানে এই ঋতুর সৌন্দর্য্য আর শুভ্রতা বন্দনায় মেতেছিলেন শিল্পীরা।
শুক্রবার সকালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ওগো শেফালি বনের মনের কামনা’ গানটির সম্মেলক পরিবেশনায় শারদপ্রাতের বন্দনার মাধ্যমে শুরু হয় শরৎ উৎসব।
সম্মেলক পরিবেশনার পরে একক শিল্পী পরিবেশনায় প্রথমে অভয়া দত্ত শোনান রবীন্দ্রসংগীত ‘আমার রাত পোহালো’। এরপরের পরিবেশনায় শ্রাবণী মজুমদার শোনালেন ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’। সুতপা সাহা শোনান রবীন্দ্রনাথের ‘ওগো কে যায় বাঁশরি’, এরপর মোস্তাফিজুর রহমান তূর্য পরিবেশন করেন ‘আমি চঞ্চল হে’, তানিয়া মান্নান শোনান ‘এসো শরতের অমল মহিমা’।
শ্রেয়া ঘোষ শোনান ‘সকরুণ বেণু বাজায়ে কে যায়’, আইরিন পারভীন অন্না শোনান ‘এই তো আমার প্রেম’, শুক্লা পাল সেতু শোনান ‘যে ছায়ারে ধরব বলে’, অসীম দত্ত শোনান ‘তোমার সোনার থালায়’ নাঈমা ইসলাম নাজ শোনান ‘হৃদয়ে ছিলে জেগে’, প্রার্থ প্রতিম রায় শোনান ‘আমি চিনি গো চিনি’, সেঁজুতি বড়ুয়া শোনান ‘কেন যে মন ভোলে’।
সম্মেলক নৃত্য পর্বও ছিল রবীন্দ্রসংগীতের সুরে বাঁধা। ছায়ানটের শিল্পীদের দল ‘আলোর অমল কমল খানি’, ‘শরতে আজ কোন অতিথি’, ‘আমার নয়ন ভুলানো এলে’, ‘শরত তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’, ‘আজ ধানের ক্ষেতে’ গানের সঙ্গে সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে। আর ‘তোমার যা বল তাই বল’ গানটির সঙ্গে একক নৃত্য পরিবেশন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা তাথৈ।
ছায়ানট সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, “বাংলাদেশের মত ছয় ঋতুর দেশ তো কোথাও পাওয়া যাবে না। আমরা যে প্রকৃতির সন্তান, তা এ ঋতুচক্রের মধ্য দিয়ে বুঝতে পারি। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঋতুচক্রের মতোই আমরা মিলেমিশে আছি।
“একইসাথে এ উৎসবের মধ্যে দিয়ে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভাতৃত্বের চর্চা করি। গানের মধ্য দিয়ে আমরা ঋতুর মত সকলের সাথে মেলবন্ধন তৈরি করি। সেই জায়গা থেকেই প্রীতি ও ভালোবাসার টানে সকলের একত্রিত হওয়া।”
ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে।