কৌতূহল ঘিরে থাকা দুই শীর্ষনেতা শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর এখন সচেতন মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সহযোগিতা আর তিস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো উত্থাপিত হলেও অনুপস্থিত আসামের নাগরিকত্ব ইস্যু।

বৈঠকের পর লেনদেনের হিসেব স্পষ্ট হয়েছে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে।

ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ আর আস্থাভাজন প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বৈঠক বরাবরই তাৎপর্যপূর্ণ নানান দিক থেকে।

শনিবার নয়াদিল্লিতে হাসিনা-মোদি প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে। বিনিময়ের ধারায় কোন দেশ কতটুকু পেলো বা ছাড় দিলো, এমন নানান কৌতূহলের উত্তর মিলছে বৈঠক শেষে ১২টি দফা সম্বলিত ৫৩টি অনুচ্ছেদে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি থেকে।

এর ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে ঢাকার পাশে থাকবে নয়াদিল্লি। আর ৪র্থ অনুচ্ছেদ বলছে, স্থলসীমানায় মানুষের যাতায়াত বাড়াতে অগ্রগতি হয়েছে ভিসা ছাড়া বাংলাদেশিদের ভারত গমনের সুযোগ তৈরির।

আগামীতে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে শেখ হাসিনার প্রস্তাবের জবাবে শিলিগুড়ি ঢাকা সরাসরি বাস চালু করতে আগ্রহের কথা বলা হয়েছে ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে।

তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টিকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের মানবিক দাবি উল্লেখ করায় জবাবে ভারত আবারও দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছে ২২ নম্বর অনুচ্ছেদ।

উপকূল ও সমুদ্রের নিরাপত্তায় রাডার স্থাপনের আগ্রহের কথা ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলার পাশাপাশি ৩৮ অনুচ্ছেদে দেশটি আগ্রহ দেখিয়েছে ভুটান নেপালের বিদ্যুৎ আনতে ৭৬৫ কেভি ডাবল সার্কিট লাইন নির্মাণের।

এছাড়া, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন ভারতও চায় দাবি করে ৪৬ অনুচ্ছেদে দেশটি বলছে, রাখাইনের পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করবে তারা। অনুচ্ছেদ ৪১ এ তারা দাবি করে, ২০১৯ এ জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন ও ২০২০ এ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজন হবে ভারতেও।

তবে, ৫৩ অনুচ্ছেদের বড় এই যৌথ বিবৃতির কোথাও আলোচিত হয়নি আসামের নাগরিক পঞ্জি ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি।