তিতিরের অপেক্ষায় –সপ্তম পর্ব

সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে এসে বাড়ীতে থিতু হতে হতে সপ্তাহখানেক পেরিয়ে গেলো। এই ক’দিন তন্ময়, তিতির মুনিয়াও অনেকটা রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। তিতির স্কুলের কাজে গেলে মুনিয়াকে রানী রাখে। শিমুলকেও তন্ময় এখানেই আনিয়ে নিয়েছে। দুইজন মানুষ সারাক্ষণ মুনিয়াকে আদরে আদরে খেলা দিয়ে ব্যস্ত রাখে। রানী আর শিমুলও অনেক দায়িত্ব নিয়েই খেয়াল করে মুনিয়ার। অল্প অল্প করে হাঁটতে শুরু করেছে, তাই ভীষণ রকম সাবধানে থাকে। খুবই লক্ষী বাচ্চা। যতক্ষন কেউ কাছে থাকে ততক্ষণ খুব ব্যস্ত রাখবে, কেউ ওকে এক জায়গায় বসিয়ে কার্টুন দেখতে দিলে, বা খাওয়ানোর চেষ্টা করলে এক জায়গায় বসেই খেলা করে। খেলে। টিভির অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দেখলে বসে বসে দোলে, হাসে, তালি দেয়। পছন্দের কিছু দেখলে খুব খুশী হয়েই একটা আওয়াজ করে। তন্ময়কে বাব বাব বলে ডাকতে চেষ্টা করে, মুখে নানান কথা বলার মতো করে। তিতিরকেও মাম মাম করে বলতে চায়। এখনো তেমন একটা পারেনা, তবে বলতে ব্যস্ত। নানান আওয়াজ দিয়ে।

কাজের ব্যস্ততার মাঝেই তন্ময়, তিতির আর মুনিয়ার পাসপোর্ট করিয়ে নিয়েছে। সাথে রানী আর শিমুলেরও করেছে। খুব শীগগির একবার মালয়েশিয়ায় যাওয়া হতে পারে। মুনিয়ার জন্য আদর দেখে, তন্ময় ওদেরও পাসপোর্ট করে রেখেছে যেন গেলে সাথে নিয়ে যেতে পারে, তাহলে ব্যবসার কাজেও তিতির সময় দিতে পারবে। তন্ময় চাইছে, তিতির, সুনন্দা আর সুপ্রীতির তিনজনকেই আস্তে আস্তে কাজে ব্যস্ত করতে। স্কুলের কাজের ফাঁকে ফাঁকে এখনই তিতির কিছ কাজ দেখে বাড়ীতে বসে বসে। ইমেইল করেস্পন্ডেন্স করতে পারে কোম্পানীর হয়ে। কাজ ভাগাভাগি করে দেবে তন্ময় খুব তাড়াতাড়ি, যেন তিনজনই কাজ শেখে, আর কাজ করতে পারে। যেভাবে প্ল্যান করে আগাচ্ছে, সবকিছু যদি ঠিকঠাক হয়, তাহলে তিনজনকেই মালয়েশিয়ার অফিস রেডি করে শিফট করিয়ে দেবে তন্ময়। নিজে আসা যাওয়া করবে। বোনদের সাথে সাথে তিতিরও যেন কাজে সমান ভাবে পারদর্শী হয়, সেজন্য তিনজনকে সামনের এক সপ্তাহের একটা ম্যানেজমেন্ট কোর্সও করাবে, সব কিছু ঠিক করিয়েছে। অফিসের আরও তিনজন করবে সে-ই কোর্স। বাইরের মানুষের চেয়ে ঘরের মানুষকে বেশী তৈরী করতে চায় তন্ময়, আহমেদ চাচা সব জানেন, খুবই খুশী হয়ে উনি দেখছেন তন্ময়ের সব কাজ। এভাবে গুছাতে দেখে নিজেই খুব অবাক হয়ে যাচ্ছেন। এত তাড়াতাড়ি সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেখে, আর কাজ আগাতে দেখে উনি নিজেই মাঝেমধ্যে বলে বসেন, বারবারই, রিটায়ার্ড লাইফে যেতে চান। নিশ্চিন্ত হয়েছেন উনি ব্যসা নিয়ে তাই। কিন্ত, তন্ময় সোজা না করে দিয়েছে। বলেছে, আপনি না থাকলে হবে না। আপনি শুধু থাকবেন সামনে, কারণ একজন বসে থাকা লাগে। উনি সুযোগ পেলেই মুনিয়ার কাছে ছুটে যান, পারলে প্রায়ই অফিসেও আনিয়ে নেন। মুনিয়াও নানাকে দেখলে খুশী প্রকাশ করতে অস্থির হয়ে যায়।

স্কুলের কাজটা বছরের শেষে ছেড়ে দেবে জানিয়েছে তিতির। এখন এক সপ্তাহ ছুটি নেবে ট্রেনিং এর জন্য। ননদ ভাবীর একসাথে ট্রেনিং। ভিসা করানো শেষ। তন্ময় শিমুল কে রাখছে ঢাকায়, আর রানীকে পাঠাচ্ছে তিতির, সুনন্দা আর সুপ্রীতির সাথে মুনিয়াকে দেখে রাখার জন্য। মালয়েশিয়ায় বাড়ী নেয়া হয়েছে। বিশাল সাত বেডরুমের বাড়ী। আহমেদ সাহেব যাবেন ওদের সাথে। তন্ময় পরে যাবে। এখানের কাজ গুছিয়ে যাবে।

কাজের প্রেশার এতটাই, যে তন্ময় এর মাঝে ভুলেই যেতে বসেছিলো ওর বাবার মৃত্যুদিনের কথা। তিতিরের মনে ছিলো। তাই এতিমখানার ছেলেদের এবার বাড়ীতে এনে দোয়া পড়িয়েছে। দুপুরে বাড়ীতে খাইয়েছে, আর রাতের জন্য খানা পাঠিয়ে দিয়েছে। তন্ময় ভীষণ অবাক হয়েছে। তারচেয়েও বেশী অবাক হয়েছে সুনন্দা আর সুপ্রীতি। ওরা তো এমনিতেই সেদিন রোযা রাখে, দোয়া পড়ে, কোরআন শরীফ খতম দিতে চেষ্টা করে। এবার তিতিরের সাথে করা দেখে ওরা কল্পনায় আনতে চেষ্টা করেছে, এমন মানুষ এখনো হয় বলে। তিতির অবশ্য খুব আস্তে করে একবার শুধু বলেছে, ওর একটা ভুলের জন্য ওর বাবা-মা ওকে বের করে দিয়েছিলো, আর তন্ময় সব ভুল শুনে, জেনে, তারপর ওকে এভাবে নতুন জীবন দিয়েছে, তন্ময়ের মা-বাবার জন্য দোয়া করতে ওর সামান্য চেষ্টা আর কৃতজ্ঞতা।

মুনিয়ার সাথে তন্ময়ের সখ্যতা অনেক গভীর হচ্ছে। তন্ময় চেষ্টা করে সন্ধ্যা বেলা তাড়াতাড়ি ফিরে আসার কাজ থেকে। আর ওর আসার আওয়াজ টের পেলেই মুনিয়া, দরজার দিকে একটা দৌড় দিতে চেষ্টা করে, কিভাবে যেন বুঝতে পারে। তন্ময় বেল বাজালেই এই কাজ এখন নিত্যাকার ঘটনা। সবারই বোঝা হয়ে গেছে। তন্ময় এখন ভীষণ চিন্তা করে, কিভাবে ও থাকবে এই কয়েকটা দিন মুনিয়া না থাকলে। বাসায় ঢুকলেই কোলে চড়ে গলা জড়িয়ে যে আদরটা করে মুনিয়া, তন্ময়ের সারাদিনের সব ক্লান্তি যেন মুহুর্তে উধাও হয়ে যায়। এ-ই সময়টা একান্তই ওদের বাবা আর মেয়ের। কোলে করেই ঘরে যাবে, বারান্দায় খেলনা দেখাবে, তারপর খেলবে, তারপর শিমুল বা রানী যখন দেখবে আসছে কিছু একটা নিয়ে ওকে খেলা দিয়ে সরাতে, তখন সরে যাবে। আর তিতির এই সময়টা অবাক হয়ে রোজই তাকিয়ে থাকে। দেখে। প্রায় দিনই ওর চোখ ভিজে যায়। তন্ময়ের পছন্দ মতো রোজই তিতির শাড়ী পড়ে বাসায়। দেশী তাঁতের শাড়ী ভীষণ পছন্দ তন্ময়ের। তাই পড়ে। হাতে চুরি কমই পড়ে। চুল মাঝেমধ্যে খোঁপা করে, কখনও বা খুলেই রাখে। এসময় হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে রোজই ওরা তিনজন একটু হলেও বেড়াতে বের হবে। কারো বাড়ীতে না গেলেও কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসে ওরা রোজই। এই বেড়ানোর সময় তিতির মুনিয়াকে কোলে নিয়ে বসে, তন্ময় ড্রাইভ করে। বেড়িয়ে এসে মুনিয়া ডিনার করে ঘুমিয়ে যায় খেলতে খেলতে। পরে তিতির আর তন্ময় খেয়ে নেয়। আজকে খেতে খেতে তন্ময় বললো ওদের কিভাবে কি করতে হবে গিয়ে। বুঝিয়ে দিলো। তিতির একটু শুরুতে ঘাবড়ে গেলেও এখন অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। ভালোই লাগছে। সুনন্দা আর সুপ্রীতির সাথে অফিসেই বুঝিয়ে দিয়েছে। বড় ভাবী হয়ে তিতিরের দায়িত্ব বেশী, তাই ওকে তন্ময় আলাদা করে সব বুঝিয়ে দেয়। কড়া নোটিশ দিয়ে দুই জামাইকে ট্রেনিং এর পরে যাওয়ার টিকেট করিয়ে দিয়েছে তন্ময়। সে-ই কথাই আজকে বললো তন্ময় তিতিরকে। যদি সবকিছু ভালো করে করতে পারে, আর যেই দুইটা কাজ তন্ময় এখান থেকে গুছাতে চেষ্টা করছে, পেলে ওদেরকে আপাতত আর ঢাকায় আসার চান্স দিতে পারবে না তন্ময়। তখন কুয়ালালামপুরে অফিস করতে হবে। সেজন্যেই ও সবাইকে একসাথেই পাঠাচ্ছে যেন তেমন হলে ও একা হুট করেই চলে আসতে পারে। বিরাট বড় কাজটা। তাই খুব চুপচাপ গুছাতে চেষ্টা করছে। একটা হাউজিং কমপ্লেক্স এর পুরো কন্সট্রাকশনের কাজ। সাথে যদি সেই বাড়ীগুলোর ডেকোরেশন করার কাজটাও পায়, তাহলে আপাতত আগামী সাত বছর ওদেরকে মালয়েশিয়ায় থেকে যেতে হবে। আজকে দুপুরে আহমেদ সাহেব এই পুরো প্রজেক্টের ব্যাপারে শুনে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন তন্ময়ের দিকে। মাঝে মাঝে উনি নিজেই ভেবে পাননা এই ছেলে কোন ধাতুতে গড়া। এত বড় একটা কাজের চেষ্টা করেই যাচ্ছে, একবারও বাইরে যাচ্ছেনা, কিন্ত সবকিছু ঠিক গুছিয়েছে। এমনকি অফিসের আর্কিটেক্ট, ইঞ্জিনিয়ার, সবাইকে যে কুয়ালালামপুরে পাঠিয়েছে, এই কাজে একবারের জন্যও কাউকে বলেনি কেন কোন কাজে। আজকে সবকিছু জানিয়েছে যখন ওর হাতে ফাইনাল লেটার অফ ইন্টেন্ট এর কপি আর এগ্রিমেন্টের কপি হাতে এসেছে। আহমেদ সাহেব সব দেখে শুধু বললেন, এত বড় কাজ এত চুপচাপ করে করলে কিভাবে! একটুও অস্থিরতা নেই, একটুও হৈচৈ নেই, সারা অফিস চুপচাপ, কিভাবে হলো সব। একবার শুধু বললেন, উনি সারাজীবন রোজগার করেও যা করতে পারেননি, তন্ময় একাই একটা কাজ এনে তার চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশী লাভের হিসেব করেছে। কন্ট্রাক্টের সাথে মালয়েশিয়ায় রেসিডেন্ট পারমিট, বিজনেস পারমিট, সবকিছু গুছিয়েছে। এখন এক সপ্তাহে ও এখান থেকে বাকি কাজ সেরে সবার সাথে একসাথে গিয়ে জয়েন করবে। দুপুরে আহমেদ চাচা’র পরে এখন রাতে তিতিরকে জানালো তন্ময়। খাওয়ার মাঝে শুনতে শুনতে তিতিরের খাওয়া প্রায় বন্ধ হবার অবস্থা হলো। ভেবেই পাচ্ছিলো না এত শান্ত কিভাবে থাকে মানুষ এত বড় একটা সাফল্য নিয়ে। এখনো কেমন নির্বিকার ভাবে খাওয়ার পরে হাত ধুয়ে ঘরে আসতে আলগা করে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে খুব স্বাভাবিক আচরণ করেই ওকে আদর করতে থাকলো কিছুক্ষণ। আপাতত শুধুই চুমু পর্যন্ত রইলো। পরে নাকি আজকে তিতিরের সেলেব্রেট করিয়ে দিতে হবে। তিতির ভেবেই পাচ্ছেনা কি বলবে!

আদর থামাতে বাধ্য হলো, কারণ চাচা ফোন করেছেন, তিতিরকে। শুনেছে কিনা জেনে নিয়ে বললেন, দোয়া করতে। ওনার ভালবাসা আর আদর সবসময়ই থাকবে এই ছেলের জন্য। তিতিরকে বললেন, ভাগ্য সব পাল্টে দেয়। এখন সবাই-ই যেন তন্ময়কে সাহায্য করতে একটুও পিছপা না হয়। তন্ময়ের অনুরোধ মতো সুনন্দা আর সুপ্রীতির কাছে বা ওদের জামাইদেরকে এখনই জানাতে মানা করলেন। বললেন সব এগ্রিমেন্ট সিগনেচার হলে তারপর জানাবেন। তিতিরও মেনে নিলো। উনি ফোন রাখলে তিতির দেখলো তন্ময় আনমনা হয়ে জানালা দিয়ে বাইরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। তিতির পাশে গিয়ে বাঁ হাতের বাহুতে হাত ঢুকিয়ে জড়িয়ে রইলো চুপ করে। দু’জনে নির্বাক থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো অনেকটা সময়।

সকালে উঠে সবকিছু গোছানো শুরু করলো, রাতে ফ্লাইট। তিতির নাশতা রেডি করতে দেখে আসলো একবার। মুনিয়া উঠে বাবার কাছে বিছানায় খেলছে। একবার খাট থেকে নামে আর একবার ওঠে, এইটাই খেলা। তন্ময় পারেও সামলাতে। তিতির মাঝে মাঝে ভাবে নিজের মেয়েনা, এটা একেবারেই মনেই করে না একবারও তন্ময়। এতোটাই আগলে রাখে। নাশতা করতে করতে তিতিরকে বুঝিয়ে দিলো কোম্পানীর সব কাগজ আর অবস্থা, কারণ মালয়েশিয়ার কোম্পানীর অপারেশন্স হেড হিসেবে তিতির কাজ করবে, সাথে সুনন্দা আর সুপ্রীতি থাকবে। কারণ দু’জন এতটা সামাল দিতে পারবেনা শুরুতেই। কয়েকজন মালয়েশিয়ান লোকও থাকবে কাজ দেখাশোনা করতে। আপাতত ছোট অফিস নিয়েছে, তিতিরের ট্রেনিং শেষ হলেই তন্ময় গিয়ে সবকিছু একসাথে বুঝিয়ে গুছিয়ে দেবে। এত তাড়াতাড়ি যে এত কাজ করা লাগবে তন্ময় নিজেও আজকে বললো বুঝতে পারেনি। হাইকমিশনার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের থেকে পাঠানো প্রপোজাল সবচেয়ে বেশী বিজনেস এক্সপানশনের ছিলো বলেই এই কাজ তন্ময় পেয়েছে। সেইসাথে মালয়েশিয়ার টাকা মালয়েশিয়ায় থাকবে সেইজন্যই ওদের সিটিজেনশিপ পেতে সহজ হবে। কাজের সাথে সাথে সেটা হয়েও যাবে বছর খানেকের মধ্যেই। সৎ মানুষের সাথে মালয়েশিয়ার সরকার সবসময়ই হাত বাড়িয়ে দেয় উৎসাহ দিতে। তাই তন্ময় সবরকম সুযোগ সুবিধা পাবে সহজেই। হাজি রাহমান সাহেব নিজেও ভীষণ সৎ করিৎকর্মা মানুষ। রিটায়ার করেছেন ঠিকই, কিন্ত কাজে উৎসাহ দিতে সবসময়ই এগিয়ে থাকেন।

সবাইকে নিয়ে এয়ারপোর্টে পৌঁছতে গেলো তন্ময়। মুনিয়া কি বুঝেছে কে জানে, খুব খুশী হয়ে নানা’র কোলে বসে আছে। উনি মুনিয়া, রানী, আর স্য্যুটকেস নিয়ে আগে রওনা হলেন। তন্ময় আর তিতির আলাদা গাড়ীতে রওনা হলো। কারণ ওরা মালয়েশিয়া হাইকমিশন হয়ে এয়ারপোর্টে আসবে। একটা কাগজ কালেকশন করতে হবে, জরুরী। সেজন্যেই ওরা আলাদা ভাবে গেলো। হাইকমিশনার নিজেই দুজনের সাথে কথা বললেন, এগ্রিমেন্টের কপি অ্যাপ্রুভ হয়ে গিয়েছে জানালেন। এখন অফিশিয়াল সবকিছু ফর্মালিটি শেষ হলো। এখন অফিশিয়ালি তন্ময়ের নিজেদের কোম্পানী হলো মালয়েশিয়ায়। এখন সবার আগেই তাই তিতিরের কাছে একটা ডকুমেন্ট দিলো যেটা দিয়ে মালয়েশিয়ায় নামার সাথে সাথেই ওখানকার কমার্স মিনিস্ট্রির লোকজন এসে ওদেরকে রিসিভ করে নিয়ে যাবে। এবার তিতিরকে নিয়ে এয়ারপোর্টে পৌঁছতে গেলো তন্ময়। পৌঁছে চাচাকে সবচেয়ে খুশীর খবর দিলো আর সবাইকে ইমিগ্রেশন পার করে প্লেনের ডাক পরার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। মুনিয়াকে কোলে নিয়ে তন্ময় অনেকক্ষণ আদর করলো, ও কি বুঝেছে জানেনা কেউই, কিন্ত ওর চোখেমুখে খুশীর ঝিলিক দেখে বুঝতে পারছে সবাই-ই। সুনন্দা আর সুপ্রীতির সাথে অভি, রাতুলও এসেছে। অল্পক্ষণ পরেই ডাক পড়েছে সিকিউরিটি চেক ইন এর। এবার শেষবার আদর করে মুনিয়াকে তুলে দিলো তিতিরের কোলে।মুনিয়া এখন খামচে ছিলো তন্ময়ের শার্ট। একটু আদর করে চুমু দিয়ে, খেলা দিলে তারপর তিতির নিতে পারলো মুনিয়াকে।

হাত নেড়ে বাই বাই দেয়া শিখেছে মুনিয়া। তিতিরের কোলে থেকে এখন বাবাকে বাই বাই দিচ্ছে।

একসপ্তাহ সময় কেটে যাবে কাজের ব্যস্ততায়। তাই খুব অসুবিধা হবেনা। প্লেন উড়ে যেতে বের হয়ে এলো তন্ময় এয়ারপোর্ট থেকে। বাড়ী ফিরে ঘরে গিয়ে মুনিয়ার খেলনাগুলো একটু নেড়েচেড়ে দেখলো। কাপড় পাল্টে, শর্টস পড়ে টিশার্ট পড়ে একবার ঘর থেকে বের হলো। ফ্রিজ থেকে একটু জুস বের করে গ্লাসে নিলো। ওকে দেখে শিমুল রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে দুপুরে কি খাবে জানতে চাইলো। নাশতা খাবে কিনা কিছু জানতে চাইলো শিমুল। তন্ময় শিমুলের দিকে তাকিয়ে একটু অবাকই হলো আজকে। শাড়ী পড়েছে। হঠাৎ! কিছু খাবে না বলে, দুপুরের জন্য মাছ ভাজা আর ডাল করতে বলে স্টাডি রুমে চলে গেলো তন্ময়। কাজের কাগজপত্র গুছিয়ে ইমেইল করে দিলো। কুয়ালামাপুরে নেমেই তিতির সব কাগজ পেয়ে যাবে ইমেইলে। ফোনে সিম লাগিয়েই দিয়েছে। শুধু অন করলেই অনলাইনে সব পেয়ে যাবে। তারপর আস্তে আস্তে সবাইকে জানাতে পারবে।

অপেক্ষা আবার শুরু হলো তন্ময়ের। মুনিয়ার জন্য, তিতিরের জন্য। আবার কাছে পাওয়ার জন্য।

তৌফিকুল করিম সুহৃদ

লেখক:
Director
Fingertips Innovations Ltd.